শ্রীরামপুর, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম জেলা সফর। তার উপর সভা ঘিরে আইনি টানাপড়েন, পথে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ সব মিলিয়ে শনিবার শ্রীরামপুরের মঞ্চে ওঠার আগেই উত্তপ্ত ছিল রাজনৈতিক আবহ। হাই কোর্টের শর্ত মেনে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ সভাস্থলে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মঞ্চে উঠেই একের পর এক ইস্যুতে নিশানা করলেন রাজ্য সরকার, পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে।
সভায় মমতার বক্তব্যের শুরুতেই উঠে আসে উত্তরপাড়া। তাঁর অভিযোগ, সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জিটি রোডে যান চলাচল আটকে দেওয়া হয়েছিল। কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে।’’ যদিও ঘটনার নেপথ্যে কারা, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দাবি তুলেছে।
এর পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সভায় কেউ গেলে তাঁদের চিহ্নিত করে পরে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশকে উদ্দেশ করে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষক হবেন কেন?’’ এই অভিযোগের স্বাধীন সমর্থন মেলেনি, পুলিশও এ বিষয়ে সভামঞ্চে ওঠা দাবির কোনও তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
মমতার বক্তব্যে জায়গা করে নেয় অন্নপূর্ণা প্রকল্পও। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে মহিলাদের ফর্ম পূরণ করানো হলেও পরে বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাল্টা SIR। ৯৩ লক্ষ নাম বাদ পড়ার দাবি তুলে তিনি ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন। সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, SIR-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ আরও বাড়ানো হবে।
শেষে মমতার বার্তা-‘‘বাংলা পথ দেখিয়েছে।’’ SIR, অন্নপূর্ণা এবং পুলিশি ভূমিকা তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে শ্রীরামপুরের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুর আরও চড়ালেন তিনি। আদালতের নির্দেশে সভায় সর্বোচ্চ ১,০০০ জনের জমায়েত, জিটি রোডে মিছিল বা অবরোধ না করা এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য এড়ানোর শর্ত ছিল।





