কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ দশকের রাজনৈতিক বৈরিতা। একে অপরের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই। সেই ইতিহাস আপাতত সরিয়ে রেখে একটি ইস্যুতে পাশাপাশি দাঁড়ানোর বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির সমন্বয়ের আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন শ্রীরামপুরের সভা থেকে সিপিএমের ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও আপত্তি তুললেন না তৃণমূল নেত্রী। বরং প্রশ্ন তুললেন, ‘‘আজাদি কেন বলা হবে না?’’
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের আবহেই মমতা-সিপিএমের যোগাযোগের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে যৌথ ভাবে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই তাঁদের আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
শ্রীরামপুরের মঞ্চেও সেই সুর স্পষ্ট। মমতার বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট দলের পরিচয় নয়, ইস্যুই বড়। তাঁর কথায়, ‘‘ইস্যু এক হলে কোনও দল দেখব না। একসঙ্গে সেই ইস্যুতে লড়তে হবে।’’ ‘আজাদি’ শব্দের অর্থ স্বাধীনতা এই যুক্তি দিয়ে সিপিএমের যুব সংগঠনের সেই স্লোগারের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মমতা। ২০০৭-এর জমি আন্দোলনে ‘সবাই’ ছিল বলে দাবি করে তাঁর প্রশ্ন, তা হলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকেই কেন গ্রেফতার করা হল? এই ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ উঠলেও রাজ্য সরকারের তরফে আগে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টে মামলাও হয়েছে।
এরই মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের জাতীয় স্তরের তৎপরতা বাড়ছে। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল নতুন করে অপসারণের প্রস্তাব আনার বিষয়ে আলোচনা করছে। ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে।
তাই শ্রীরামপুরের মঞ্চে ‘আজাদি’ নিয়ে মমতার মন্তব্য নিছক একটি শব্দের ব্যাখ্যা নয়-জ্ঞানেশ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব ভুলে ইস্যুভিত্তিক বৃহত্তর বিরোধী সমন্বয়ের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই বার্তাও তার মধ্যে রয়েছে।





