শ্রীরামপুর, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ কলকাতার বাইরে প্রথম জেলা সফর। দীর্ঘ আইনি টানাপড়েন পেরিয়ে শনিবার শ্রীরামপুরের মঞ্চে ফিরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে, মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে পাশে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মঞ্চে উঠেই বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় রাজ্যের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক ইস্যুতে আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্রীরামপুরের সভার অন্যতম বড় বিষয় হয়ে উঠল হকার উচ্ছেদ। মমতার অভিযোগ, ক্ষমতার দাপটে গরিব হকারদের রুজি-রোজগার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে আদালতে লড়াই করার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক মানুষের জীবিকা ও জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন মমতা। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জায়গায় পরে কারা বসছেন, তারও জবাব দিতে হবে সরকারকে।
সেই সুরেই মমতার নিশানায় অন্নপূর্ণা যোজনা। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বহু মহিলা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পে নিয়মিত সহায়তা দেওয়ার যে ব্যবস্থা ছিল, তার বদলে নতুন প্রকল্পের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তবে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধাভোগী ও বাদ পড়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে মমতার বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে।
এর পরেই ফের এসআইআর। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মমতার পুরনো অভিযোগই উঠে আসে শ্রীরামপুরের মঞ্চে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, এসআইআর-এর নামে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সম্প্রতি এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এই ইস্যুতে বিরোধীদের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে।
সভা শুরুর আগেই অবশ্য উত্তাপ চড়েছিল। মমতার কর্মসূচি ঘিরে অনুমতি নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর হাই কোর্ট শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভার অনুমতি দেয় সর্বাধিক এক হাজার মানুষের জমায়েত এবং জিটি রোডে মিছিল বা যান চলাচল বন্ধ না করার মতো শর্তে।
ফলে শ্রীরামপুরের মঞ্চে মমতার প্রথম জেলা সভা শুধু প্রত্যাবর্তনের ছবি নয় হকার, অন্নপূর্ণা এবং এসআইআর-কে সামনে রেখে বিরোধী রাজনীতির নতুন সুরও স্পষ্ট করল।





