কলকাতা, ২৮ মেঃ কলকাতা পুরসভা-য় ফের বড়সড় ধাক্কার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। একইসঙ্গে পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূলের আর এক কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। দু’জনেই বুধবার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে-র কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তাঁরা মেয়র ফিরহাদ হাকিম-এর ঘরেও গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন।
বুধবার দুপুরে সুশান্ত ও অরূপকে একসঙ্গে পুরসভায় ঢুকতে দেখে জল্পনা ছড়ায়। পরে জানা যায়, সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক পদ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরা। যদিও কাউন্সিলর পদ আপাতত ছাড়ছেন না বলেই স্পষ্ট করেছেন দুই নেতা। সুশান্ত ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের এবং অরূপ ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
পদত্যাগের পর সাংবাদিক বৈঠকে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “ভোটে এই ফল কাম্য ছিল না। মানুষের রায় মাথা পেতে নিতে হবে। দলের কর্মীরা এখন বিপদে। এতদিন যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, সুবিধা নিয়েছেন, তাঁরা এখন কোথায়?” একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে কাউন্সিলর পদও ছেড়ে দিতে পারেন।
একই সুর শোনা যায় সুশান্ত ঘোষের গলাতেও। তিনি জানান, সংগঠনের ভেতরে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। পাশাপাশি গত বছরের গুলিকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নিজের বাড়ির সামনে সুশান্ত ঘোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। যদিও গুলি না চলায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। পরে ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু সুশান্তের দাবি, তদন্ত সঠিক পথে এগোয়নি। তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।
এর আগে কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস। রাজনৈতিক মহলের মতে, ধারাবাহিক এই পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকেই সামনে এনে দিচ্ছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ নেতার মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জল্পনা। কেউ প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, কেউ আবার সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ছেন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ডাকা বৈঠকেও কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর পদত্যাগ কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটেরই প্রতিফলন। যদিও দলীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।





