কোচবিহার, ২৩ মেঃ রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়ানো নিয়ে সরব হলেন কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়তেই দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন এই তৃণমূল নেতা।
ফেসবুক পোস্টে অভিজিৎবাবু লেখেন, “নিরবতা অনেক কথার উত্তর দেয়, তাই আমি কিছু সময় নীরব ছিলাম। মানুষের রায় এবং সেই রায়ের ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, শুধু তিনি নন, দলের হয়ে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা বহু নেতা-কর্মী এবং তাঁদের পরিবার বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সেই কারণেই সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন অভিজিৎ দে ভৌমিক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “২০২০ পর্যন্ত যারা ক্ষমতা ভোগ করেছেন, মন্ত্রী ছিলেন, দলের সভাপতি ছিলেন, তারা রাতারাতি সাধু হয়ে গিয়েছেন। সব বলব একদিন লাইভ ও প্রেস মিট করে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে দলত্যাগের সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “সুসময় থাকলাম আর দুঃসময় পালিয়ে গেলাম, এটা আমার জীবনের নীতি না।” তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি তাঁর কাছে কখনও নেশা বা পেশা ছিল না।
জেলা সভাপতি হিসেবে দলের কর্মীদের প্রতিহিংসা থেকে রক্ষা করতে না পারার জন্য নিজের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে তাঁর দৃঢ় বক্তব্য, “আমি হেরেছি, তবে হারিয়ে যাইনি।”
নিজের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। এদিন সকালের ‘পদ্ম সাধনা’র ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে আইনি ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়ানো এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে অভিজিৎ দে ভৌমিকের এই পোস্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





