ফলতা, ২৩ মেঃ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সি-র বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। সমাজমাধ্যমে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতা জাহাঙ্গির খান-এর প্রভাবেই শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও পদে আনা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির পিছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, ফলতায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন, যার পিছনে প্রশাসনিক কারচুপির ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্যে আসা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটই সেই দাবির প্রমাণ।
সামনে আসা স্ক্রিনশটগুলিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি বিজেপির, শানু বক্সি জাহাঙ্গির খানকে একাধিক সরকারি পিডিএফ নথি পাঠাচ্ছেন। এক জায়গায় জাহাঙ্গিরকে লিখতে দেখা গিয়েছে, “শানু করে দিলাম, যেটা বলেছি সেটা করলাম।” অন্য একটি চ্যাটে জাহাঙ্গির লিখছেন, “আজ শানু বক্সি বিডিও ফলতা তাহলে”, যার উত্তরে সম্মতিসূচক বার্তা দেখা যায়।
এই চ্যাট সামনে এনে বিজেপি নেতা অভিযোগ করেছেন, ফলতার রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খানই প্রশাসনিক স্তরে শানু বক্সিকে বসানোর মূল কারিগর। তাঁর আরও দাবি, বিডিও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শানু বক্সি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়েছিলেন। এমনকি প্রিসাইডিং অফিসারদের ভয় দেখিয়ে ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শানু বক্সি। তাঁর দাবি, প্রকাশ্যে আসা সমস্ত চ্যাট ও স্ক্রিনশট ভুয়ো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন প্রযুক্তির সাহায্যে অনেক কিছুই বানানো সম্ভব।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শানু বক্সিকে ফলতায় বদলি করে আনা হয়েছিল। পরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তাঁকে সরিয়ে দেয়। এর আগেও শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ‘সাদা খাতার বিডিও’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





