কলকাতা, ২৩ মেঃ রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী তিন মাসের মধ্যেই বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে স্বাস্থ্য দফতরের বৈঠকের পর মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত-কে পাশে নিয়ে তিনি জানান, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অন্যান্য শূন্যপদে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রকল্প মিলিয়ে স্বাস্থ্য দফতরে বর্তমানে প্রয়োজনীয় পদের মাত্র ৫৩ শতাংশে নিয়োগ হয়েছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কম। তাঁর বক্তব্য, “জাতীয় গড় ইতিমধ্যেই ৯৮ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। বাংলাকেও সেই জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।” দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিয়োগ আটকে থাকার অভিযোগ তুলে আসছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। নতুন সরকারের এই ঘোষণায় তাঁদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে স্বাস্থ্যক্ষেত্র-সহ বিভিন্ন দফতরে নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং সেই কারণেই বহু পদ দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন নিয়েও এদিন সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সংক্রান্ত কাজেও বাংলা পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৫৬.৬৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সেই হার ১০০ শতাংশে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিন শিয়ালদহে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত রোজগার মেলাতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে নতুন নিয়োগ নীতি চালুর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের কার্বন কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। তাঁর বক্তব্য, “কার্বন কপি না দেওয়ার ফলে নেপোটিজম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। তাই নতুন নিয়োগ নীতিতে ওএমআর কার্বন কপি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।”
তিনি আরও জানান, লিখিত পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক স্কোরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতা কমানো হবে। সরকারের লক্ষ্য, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া।





