কলকাতা, ২৩ মেঃ রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। ভোট পরবর্তী অশান্তি, বিরোধীদের হুমকি, মারধর এবং পার্টি অফিস দখলের মতো অভিযোগে এবার দলের ৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে শো-কজ করল বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সরকারে আসার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক উশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আগেই সতর্ক করা হয়েছিল কর্মী-সমর্থকদের।
সম্প্রতি এক দলীয় বৈঠকে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “দলের তৃণমূলিকরণ করা যাবে না। মানুষ যা চায়, সেটাই দিতে হবে। ইউনিয়ন দখল, অটো বা টোটো ইউনিয়নে জোর করে প্রভাব বিস্তার কিংবা অন্য দলের পার্টি অফিস দখল এসব কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না।
সেই বার্তারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল এবার। বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “সংগঠনবিরোধী কাজ করার অভিযোগে বিভিন্ন জেলার ৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে শো-কজ করা হয়েছে। প্রায় সব জেলা থেকেই অভিযোগ এসেছে। আমরা প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
দলীয় সূত্রে খবর, যাঁদের শো-কজ করা হয়েছে, তাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত দলের কোনও সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। যদিও আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়নি। প্রথম ধাপে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়েই তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছে দল।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বেশি অভিযোগ এসেছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক জেলা থেকে ভোট-পরবর্তী অশান্তি ও দখল রাজনীতির অভিযোগ জমা পড়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারে আসার পর নিজেদের ভাবমূর্তি পরিষ্কার রাখতে এবং বিরোধীদের আক্রমণের সুযোগ না দিতেই বিজেপি এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।





