কলকাতা, ২৩ মেঃ স্কুল পড়ুয়াদের কাঁধে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর আওতায় এবার কার্যকর হতে চলেছে ‘জাতীয় ব্যাগ নীতি’। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতেও পড়ুয়াদের ব্যাগের ওজন, খাতার সংখ্যা এবং হোমওয়ার্কের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও পড়ুয়ার স্কুল ব্যাগের ওজন তার শরীরের মোট ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবকদের একাংশ অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন যে ছোট ছোট পড়ুয়াদের অত্যধিক ভারী ব্যাগ বইতে হচ্ছে, যার ফলে শারীরিক সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।
শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়ারা স্কুলে শুধুমাত্র একটি ক্লাসওয়ার্কের খাতা নিয়ে যাবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য থাকবে একটি স্কুলওয়ার্ক এবং একটি হোমওয়ার্কের খাতা। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মোটা ও পাতলা খাতা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু ব্যাগের ওজন নয়, হোমওয়ার্কের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের কোনও হোমওয়ার্ক দেওয়া যাবে না। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়ারা সপ্তাহে সর্বাধিক দু’ঘণ্টা হোমওয়ার্ক করতে পারবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য প্রতিদিন এক ঘণ্টা এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য সর্বাধিক দু’ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়াও বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে স্কুলে লকার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। শিক্ষা দফতরের মতে, এর ফলে পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে।
তবে এই নির্দেশিকা শুধুমাত্র সরকারি স্কুলে নাকি বেসরকারি স্কুলেও কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক অভিভাবক। কারণ বেসরকারি স্কুলগুলিতে প্রি-প্রাইমারি স্তর থেকেই পড়াশোনার চাপ ও ভারী ব্যাগের সমস্যা বেশি বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের একাংশের দাবি, সব ধরনের স্কুলেই যদি এই নিয়ম কার্যকর হয়, তাহলে পড়ুয়ারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।
শিক্ষা মহলের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিশুদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে এবং পড়াশোনার পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে।





