দিল্লি, ৭ এপ্রিলঃ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ওব্রায়েন এবং সাংসদ সাগরিকা ঘোষ কমিশনকে ‘কম্প্রোমাইজড’ ও ‘ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বলে কটাক্ষ করেন।
তাঁদের অভিযোগ, বাংলায় প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতেই বুধবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। ডেরেক জানান, সোমবারই কমিশনের কাছে সাক্ষাতের জন্য ইমেল পাঠানো হলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি। পরে মঙ্গলবার বিকেলে কমিশনের তরফে বুধবার সকাল ১০টার সময় দেওয়া হয়। তবে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে যাবেন বলে জানান তিনি।
কমিশনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে ডেরেক বলেন, “আপনাদের ঔদ্ধত্য অনেক হয়েছে। এবার আপনাদের আমাদের কথা শুনতেই হবে। আমরা শুধু দলের হয়ে নয়, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে যাচ্ছি।”
এদিনের বৈঠকে ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। তাঁদের দাবি, ২৭ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ২ জন এখনও পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের সহায়তায় বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতে ‘পাবলিক সার্ভিস ভিডিও মেসেজ’ প্রকাশের কথাও ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, বিরোধী সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ বাতিল হওয়া নিয়েও সরব হন ডেরেক। তাঁর দাবি, প্রায় ৩০০-৩৫০ জন সাংসদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই সেই নোটিশ বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনিসাংবাদিক বৈঠকে বিভিন্ন ‘ওপিনিয়ন পোল’ নিয়েও কটাক্ষ করেন ডেরেক। তাঁর অভিযোগ, চাপ সৃষ্টি করে বিভ্রান্তিকর সমীক্ষা প্রকাশ করা হচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, এখন আসন সংখ্যা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং মানুষের সাংবিধানিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





