খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ জানুয়ারিঃ নতুন বছরের শুরুতেই জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। অ্যান্টিবায়োটিকের বাছবিচারহীন ও যথেচ্ছ ব্যবহার রুখতে রাজ্যস্তরে চালু হতে চলেছে ‘স্টেট অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাকশন প্ল্যান’। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৯ জানুয়ারি এই বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই এই অ্যাকশন প্ল্যানের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, অর্থাৎ জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি হওয়া। এর ফলে সাধারণ সংক্রমণও ভবিষ্যতে মারাত্মক আকার নিতে পারে। এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই গত এক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত এই নয়া নীতিতে হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর, সিসিইউ ও আইসিইউ-তে কোন পরিস্থিতিতে কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে, তার স্পষ্ট নির্দেশিকা বা ‘প্রোটোকল’ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, সেগুলিও চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ কেবল মানবস্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্বাস্থ্য দপ্তর বিষয়টিকে ‘ওয়ান হেলথ’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে। সেই কারণে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর, মৎস্য দপ্তর ও পরিবেশ দপ্তরের সঙ্গেও একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। পশুপালন ও মাছচাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণ এবং মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে এই সমস্যার মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ভবনের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “মানবস্বাস্থ্য, পশুপালন, মৎস্যচাষ ও পরিবেশ এই চারটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তার প্রভাব অন্য ক্ষেত্রেও পড়ে। তাই একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যানের প্রয়োজন ছিল।”
জানা গিয়েছে, নতুন এই পরিকল্পনায় নজরদারি জোরদার করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই এই নীতির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।





