মনিরুল হক, কোচবিহার: নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতির ফলে।
অভিষেক বলেন, নোটবন্দি, লকডাউন, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, স্বাধীনতার ৭৯ বছর পর কেন বাঙালিদের নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে? তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “বাঙালি মাথা নত করবে না। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চলবে।”
এই সভা থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার সংস্কৃতি ও মনীষীদের অপমান করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপির নেতারা ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করেছেন, যা তাদের অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সাম্প্রতিক কোচবিহার সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতৃত্ব যখন কোচবিহারে আসেন, তখন মদন মোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করেন। কিন্তু বিজেপি নিজেদের হিন্দু ধর্মের রক্ষাকর্তা দাবি করলেও, প্রধানমন্ত্রী সভা করতে এসে মন্দিরে যাননি।
হিন্দুত্ব ইস্যুতেও বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের হিন্দু ধর্ম শেখানোর প্রয়োজন নেই। আমরা স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে বিশ্বাস করি, অন্য কারও গেরুয়া রাজনীতিতে নয়।” পাশাপাশি তিনি যোগী আদিত্যানাথ-এর রাজনীতিকেও ইঙ্গিতে আক্রমণ করেন।
এদিন এসআইআর ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ভয় পাবেন না, আপনাদের ভোটাধিকার কেউ কাড়তে পারবে না। যদি নাম বাতিল হয়, তবে মা-মাটি-মানুষের সরকার তা ফিরিয়ে দেবে, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়াই হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও আশ্বাস ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল। এখন দেখার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।





