কোচবিহার, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ উপনির্বাচনের আগে কোচবিহারে এসে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। শনিবার মধুপুর সত্রী পরিদর্শনে এসে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন, অন্য দিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণ করলেন তিনি। মমতা-শিবিরের নতুন ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, “জোড়াফুল তো গেল, ফুটবলও থাকবে না। পাংচার হয়ে যাবে।”
শনিবার কোচবিহারের মধুপুরে বৈষ্ণব ধর্মপ্রচারক শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের স্মৃতিবিজড়িত মধুপুর সত্রীতে যান হিমন্ত। ঐতিহাসিক এই সত্রীকে ঘিরে অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি। মধুপুর সত্রী সংরক্ষণ ও উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গের সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
তবে সত্রী পরিদর্শনের আবহ দ্রুতই বদলে যায় রাজনৈতিক প্রশ্নে। রাজ্যের আসন্ন উপনির্বাচন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হিমন্তের জবাব ছিল, “মমতা চলে গিয়েছে। আর জীবনে আসবে না। ওঁর কথা ভুলে যাও।” এরপরই তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে উন্নয়ন হবে এবং মমতা তা দেখবেন।
মমতার নতুন প্রতীক নিয়েও তাঁর কটাক্ষ স্পষ্ট। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে মমতা-শিবির আপাতত ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীকে ভোটে লড়বে। অন্য শিবির পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।
এর পরেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি প্রসঙ্গ ওঠে। সেই প্রশ্নেও কংগ্রেসকে নিশানা করেন হিমন্ত। রাহুল গান্ধীর মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের ভাষা ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক, যেখানে রাহুলকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যও করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার আগে মমতা-শিবিরের প্রতীক বদল, নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থন এবং রেজিনগরে প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর অবস্থান বদল সব মিলিয়ে ভোটের আবহ ইতিমধ্যেই সরগরম। তার মধ্যেই কোচবিহার থেকে হিমন্তের এই আক্রমণ নতুন মাত্রা যোগ করল।





