কোচবিহার, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ ইতিহাসের পাতায় শুধু একটি নাম নয়, বৈষ্ণব ভাবধারার এক পবিত্র স্মৃতিধাম কোচবিহারের মধুপুর সত্র। শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের স্মৃতিবিজড়িত সেই পবিত্র ভূমিতেই এ দিন হাজির হলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সত্রে পা রেখেই যেন ফিরে এল কয়েক শতকের পুরনো সেই ধর্মীয় ঐতিহ্য। সঙ্গে ছিলেন অসমের দুই মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায়-সহ একাধিক বিধায়ক।
মধুপুর সত্র শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, অসম ও উত্তরবঙ্গের বৈষ্ণব সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। শ্রীমন্ত শঙ্করদেব তাঁর জীবনের শেষ পর্ব কাটিয়েছিলেন এই মধুপুর ধামেই। এখানেই তাঁর প্রয়াণ। ফলে ভক্তদের কাছে এই স্থান আজও গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের। সারা বছর অসম-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন শঙ্করদেবের স্মৃতিধন্য এই ধামে।
সেই ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মধুপুর সত্রকে বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি অসমের বাজেটে সত্রের উন্নয়নের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। হিমন্তের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও মধুপুর সত্রের উন্নয়নে ৩০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, সত্রের সঙ্গে যুক্ত হরিপুর ও বৈকুণ্ঠপুর এলাকার উন্নয়ন এবং সত্রের জমি উদ্ধারের বিষয়ও পরিকল্পনায় রয়েছে। হিমন্ত জানান, অসমের নগাঁও জেলার বড়দোয়া সত্রকে যে ভাবে আধুনিক পরিকাঠামোয় সাজানো হয়েছে, সেই আদলেই মধুপুরকেও গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। এ জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের বড়দোয়া সত্র পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি।
মধুপুরের মাটিতে আজও যেন শোনা যায় শঙ্করদেবের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রতিধ্বনি। সেই পবিত্র স্মৃতিকে সামনে রেখে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হলে ধর্মীয় পর্যটনের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে মধুপুর। স্থানীয়দের আশা, ভক্ত ও পর্যটকের আনাগোনা বাড়লে ঐতিহ্যের পাশাপাশি বদলাবে এলাকার অর্থনীতির ছবিও।





