মুর্শিদাবাদ, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ রেজিনগরে যেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলাচ্ছে উপনির্বাচনের চিত্র। সকালে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। কিছু ক্ষণের মধ্যেই অবস্থান বদল। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে ভোটের ময়দানেই থেকে গেলেন রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। অর্থাৎ, মমতা-শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না। নতুন প্রতীক ‘ফুটবলার’ নিয়েই লড়বেন তিনি।
শনিবার সকালে রবিউল জানিয়েছিলেন, কর্মীদের উপর চাপ রয়েছে। অনেকে পাশে থাকছেন না। ফলে ভোট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই কারণেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “কর্মীদের উপর চাপ আছে। ওরা থাকছে না। ভোট করাব কী করে। প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। কিছুটা সময় গড়াতেই রবিউলের অবস্থান বদল। তাঁর সঙ্গে কথা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পরেই নেত্রীর নির্দেশ মেনে ভোটে থাকার কথা জানান তিনি। রবিউলের বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো লড়াই করব। নতুন প্রতীক নিয়ে লড়াই হবে।”
কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা কম হলেও লড়াই থেকে সরবেন না বলে জানিয়েছেন রবিউল। তাঁর বক্তব্য, যত জন কর্মী থাকবেন, তাঁদের নিয়েই প্রচার ও ভোটের কাজ হবে। অতীতেও কম কর্মী নিয়ে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে মমতা নিজে রেজিনগরে প্রচারে আসবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর দুই উপনির্বাচনেই তাই নাটক কমছে না। নন্দীগ্রামে মমতা-শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতার দল। অন্য দিকে রেজিনগরে সকালে প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এলেন রবিউল।
এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় প্রতীক-নাম বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ফ্রিজ। মমতা-শিবির পেয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবলার’ প্রতীক। সেই নতুন প্রতীক নিয়েই এ বার রেজিনগরে লড়াই রবিউলের।
ফলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেল সমীকরণ। রবিউল সরে দাঁড়ালে মমতা-শিবিরের পক্ষে এই উপনির্বাচনে প্রার্থী না থাকার পরিস্থিতি তৈরি হত। এখন সেই সম্ভাবনা আপাতত উধাও। ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে রেজিনগরে তাই লড়াইয়ের পাশাপাশি নজর থাকবে ‘ফুটবলার’ প্রতীকটিকেও ঘিরে।





