নন্দীগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়তেই বদলে গেল ভোটের অঙ্ক। শুক্রবার একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন। তার পরেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করল পুলিশ। আর সেই গ্রেফতারিকে ঘিরেই শনিবার আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
শুক্রবার রাতেই চণ্ডীপুর থানার সামনে পৌঁছেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। শনিবার সকালে তাঁদের দেখা যায় হলদিয়া আদালত চত্বরে। সেখানেই শুভঙ্কর দাবি করেন, নির্বাচনী লড়াই থেকে পিছু হটছে না কংগ্রেস। আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে। প্রয়োজনে প্রার্থী জেলে থেকেও ‘প্রচার’ চালাবেন বলে জানান তিনি। কর্মীরা এলাকায় লিফলেট বিলি করে প্রচার করবেন বলেও দাবি তাঁর।
শুভঙ্করের আরও অভিযোগ, গ্রেফতারের আগে মিলন প্রধানের চোখে কাপড় বেঁধে তাঁকে সমুদ্র সৈকতের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন করায় দলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্যকেও গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগগুলির স্বাধীন সমর্থন মেলেনি; পুলিশের তরফে মিলনের বিরুদ্ধে পুরনো মামলার আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অবশ্য আলাদা। তদন্তকারীদের দাবি, মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো মামলা ছিল এবং আদালতের জারি করা চারটি জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে তিনি আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছিলেন।
ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও বেড়েছে। মিলনের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কংগ্রেসের অভিযোগ, সময়ের এই যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পুলিশ আইনি দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছে।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে ভোট ৬ অক্টোবর। ফল ৯ অক্টোবর। তার আগে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার, সমর্থন বদল এবং গ্রেফতারি সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে ভোটের লড়াই এখন আদালত ও রাজনীতির দুই মঞ্চেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে।





