শিলিগুড়ি, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ পাহাড়ে পঞ্চায়েতের কাজের গতি নিয়ে এ বার কড়া নজর রাজ্যের। আবাস যোজনা-সহ গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প কতটা এগিয়েছে, কোথায় কাজ আটকে রয়েছে, আর কোথায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সবটাই খতিয়ে দেখতে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে বিশেষ রিভিউ বৈঠক করল রাজ্য সরকার। বৈঠকের পর পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানালেন, রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই এই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে পঞ্চায়েতের কাজের গতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
দার্জিলিংয়ের বৈঠকে পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের সচিব-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং বিডিওরা উপস্থিত ছিলেন। আবাস যোজনা-সহ গরিব কল্যাণের প্রকল্পগুলির বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বিডিওদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়া হয়। কোন প্রকল্পের কাজ কোথায় থমকে রয়েছে, কোথায় প্রশাসনিক সমস্যা এবং সাধারণ মানুষ আদৌ পরিষেবা পাচ্ছেন কি না তা নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ উন্নয়নে এ বার বড় বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে কর্মী সঙ্কট এবং দীর্ঘদিনের বৃষ্টির জেরে পাহাড় ও ডুয়ার্সের বেশ কিছু এলাকায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। ব্লক ধরে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তাঁর আশা, আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে।
তবে বৈঠকে শুধু উন্নয়ন নয়, দুর্নীতির অভিযোগও গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রীর ঘোষণা, রাজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট করা হবে। পাহাড়ের জিটিএ-তেও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি পঞ্চায়েত সভাপতি বা সদস্য না থাকা এবং জিটিএ-তে কর্মীর ঘাটতির কারণে কোথাও কোথাও কাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলেও স্বীকার করা হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানকে পাহাড়ের পঞ্চায়েত এলাকার সমস্যা ও প্রয়োজনের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
অর্থাৎ, পাহাড়ে পঞ্চায়েতের উন্নয়নের খাতা এ বার শুধু পর্যালোচনাতেই নয় কাজের গতি এবং হিসাব, দু’দিকেই নজর দেওয়ার বার্তা দিল রাজ্য।





