কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ কলকাতার যানজট পেরিয়ে এ বার কি ছুটবে ‘নমো ভারত’? দিল্লি-এনসিআর-এর আদলে বাংলাতেও রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS) চালুর প্রস্তাব উঠল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লালকে চিঠি দিয়ে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চারটি হাইস্পিড করিডরের প্রস্তাব দিয়েছেন। চিঠির সঙ্গে প্রাথমিক ফিজিবিলিটি রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কের কেন্দ্র কলকাতার ময়দান। সেখান থেকে চার দিকে ছড়িয়ে পড়বে দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রথম করিডর কলকাতা–কল্যাণী–কৃষ্ণনগর–মায়াপুর, দৈর্ঘ্য ১৩৫ কিলোমিটার। দ্বিতীয়টি কলকাতা–বর্ধমান–দুর্গাপুর–আসানসোল, ২৩২ কিলোমিটার। তৃতীয় করিডর কলকাতা–ফলতা–ডায়মন্ড হারবার–হলদিয়া–নন্দীগ্রাম, ১০২ কিলোমিটার। আর চতুর্থটি কলকাতা–সাঁতরাগাছি–কোলাঘাট–খড়গপুর–মেদিনীপুর, ১৩৫ কিলোমিটার। চারটি মিলিয়ে প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০৪ কিলোমিটার।
ভাবনাটা শুধু শহরতলির যাতায়াত সহজ করার মধ্যে আটকে নেই। প্রস্তাবের পিছনে রয়েছে কলকাতার বাইরে গড়ে ওঠা শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে দ্রুত যোগাযোগের জালে আনা। দুর্গাপুর, আসানসোল, হলদিয়া, খড়গপুর, কৃষ্ণনগরের মতো শহরগুলিকে কলকাতার সঙ্গে দ্রুতগতির আঞ্চলিক পরিবহণে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় করিডরে আসানসোল মেট্রোর সংযুক্তির প্রস্তাবও রয়েছে।
তৃতীয় করিডরে ময়দান থেকে বজবজ পর্যন্ত মেট্রো সংযোগের ভাবনাও রাখা হয়েছে। ফলে একদিকে কলকাতার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের যোগাযোগ, অন্য দিকে শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে শহরের সংযোগ দুই দিকই ধরতে চাইছে এই প্রস্তাব।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক জমি। প্রস্তাবিত করিডরগুলি জাতীয় সড়ক ও বিদ্যমান রেলপথের পাশ দিয়ে তৈরির কথা বলা হয়েছে। শমীকের যুক্তি, তাতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন তুলনামূলক ভাবে কমতে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল র্যাপিড ট্রানজিট কর্পোরেশন’ (WBRTC) নামে বিশেষ সংস্থা তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে আপাতত এটি একটি প্রস্তাব এবং প্রাথমিক ফিজিবিলিটি রিপোর্টের পর্যায়েই রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে বিস্তারিত সমীক্ষা, যাত্রী চাহিদা, প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা ও আর্থিক দিক খতিয়ে দেখার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। ফলে ‘নমো ভারত’ বাংলায় কবে ছুটবে, আদৌ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে কতটা এগোয় সেটাই এখন দেখার।





