দিনহাটা, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ জেলা জুড়ে রাজবংশী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ক্ষত্রিয় উপনয়ন ও মহামিলন উৎসব পালিত হল। দিনহাটার বুড়িরহাট সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।মঙ্গলবার দুপুরে বুড়িরহাট পঞ্চানন পিঠে ভারতের জাতীয় পতাকা ও ক্ষত্রিয় সমাজের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়।
এরপর রাজবংশী সমাজের প্রাণপুরুষ, মনীষী রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষঙ্গ ছিল রাজবংশী যুবকদের ক্ষত্রিয়করণ। এ উপলক্ষে যুবকদের মাথা মুণ্ডন করে নিয়ম-নিষ্ঠার সাথে পৈতা পরিয়ে দেওয়া হয়।
এই উৎসবের পেছনে রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য। ১৯১৩ সালের ২৭শে মাঘ (ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী সময়) মনীষী পঞ্চানন বর্মা জলপাইগুড়ি জেলার দেবীনগরের কাছে পেরোলবাড়িতে করতোয়া নদীর তীরে একটি বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশের আয়োজন করেন। সেখানে হাজার হাজার রাজবংশী মানুষ ক্ষত্রিয় পরিচয়ের দাবিতে সমবেত হন। এই সমাবেশই রাজবংশী সমাজের সাংগঠনিক ও সামাজিক চেতনার বিকাশে মাইলফলক হয়ে আছে।
পঞ্চানন বর্মা এখানেই ক্ষত্রিয় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ক্ষত্রিয়করণ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান। করতোয়া নদীর তীর তাই রাজবংশী সমাজের আন্দোলন ও সংস্কারের ঐতিহাসিক মিলনস্থল হিসেবে চিহ্নিত।সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতিকে ধারণ করেই ২৭শে মাঘ উত্তরবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, এবং এমনকি বাংলাদেশ ও নেপালেও রাজবংশী সম্প্রদায় কর্তৃক ক্ষত্রিয় উপনয়ন ও মহামিলন উৎসব পালিত হয়ে আসছে।
এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং সম্প্রদায়ের ঐক্য, পরিচয়বোধ ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি জাতীয় উৎসব।বুড়িরহাট এ এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িরহাট এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আলিমা খাতুন বিবি, বিশিষ্ট সমাজসেবী আব্দুল সাত্তার, যাজ্ঞ বলকো সিংহ, খগেশ্বর বর্মন ছাড়াও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।





