খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৬ ডিসেম্বরঃ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে ভাঙচুর ও চরম অব্যবস্থার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে একগুচ্ছ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ঘটনার দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে প্রথমেই শোকজ করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে। একই সঙ্গে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে বিধাননগর পুলিশের কমিশনার মুকেশ কুমার এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকেও। পাশাপাশি, বিধাননগরের ডিসি অনীশ সরকারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সিইও দেবকুমার নন্দনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ মেনেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মাঠ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া শুরু হয়, একাধিক ব্যানার ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ব্যারিকেড ভেঙে উন্মত্ত জনতা মাঠে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্রুত কলকাতা ত্যাগ করেন মেসি। গোটা ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মেসির কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সেই কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়তেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজ নোটিসের জবাব দিতে হবে। একইভাবে বিধাননগর পুলিশের কমিশনার মুকেশ কুমারকেও এক দিনের মধ্যে শোকজের উত্তর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধাননগরের ডিসি অনীশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালীন তাঁকে সাসপেন্ড রাখা হবে। যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকেও শোকজ করা হয়েছে। সবচেয়ে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত আমলা দেবকুমার নন্দনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে স্পষ্ট, যুবভারতী কাণ্ডে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।





