কলকাতা, ২ নভেম্বরঃ রাজনীতির পালাবদল শুধু বিধানসভা কিংবা প্রশাসনের অলিন্দে আটকে নেই। তার ছায়া পড়েছে উৎসবের মণ্ডপেও। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মধ্যমগ্রামের বড় বাজেটের কালীপুজোগুলিতে বদলাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। যে সব ক্লাব ও পুজো কমিটিতে একসময় তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল, তার কয়েকটিতে এখন সক্রিয় বিজেপি শিবির। কোথাও পুরনো উদ্যোক্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছে, কোথাও আবার ক্লাবের সাংগঠনিক দায়িত্বে উঠে এসেছেন নতুন মুখ। ফলে প্রতিমা, মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি এবার চর্চার কেন্দ্রে পুজো কমিটিগুলির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণও।
এই পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট শ্রীপুরের রবীন্দ্রপল্লী অ্যাথলেটিক, বসুনগরের প্রতাপ সংঘ এবং দেবীগড়ের ইয়ং সেন্টারে। আগে এই পুজোগুলিতে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের প্রভাব থাকলেও বর্তমানে উদ্যোক্তা ও পরিচালনার দায়িত্বে বিজেপি ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতি বেড়েছে। গঙ্গানগরের কয়েকটি পুজো কমিটিতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
চৌমাথার ইয়ং রিক্রিয়েশন ক্লাবের পুজোয় রাজনৈতিক সমীকরণের এই বদল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় তৃণমূল প্রভাবিত এই পুজোয় এখন সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ বিজেপির হাতে। যদিও প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। ক্লাবের ৩৯তম বর্ষে থিম ‘শান্তির পথে’। থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ের বিখ্যাত ‘হোয়াইট ক্যাসেল’ বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে প্রায় ১২০ ফুটের মণ্ডপ। পুজোর বাইরেও বছরভর সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে ক্লাবটি। দুঃস্থদের খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ বিতরণের পাশাপাশি ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্যও সাহায্য করা হয়।
তবে মধ্যমগ্রামের সর্বত্র যে গেরুয়া প্রভাব বিস্তার করেছে, তা নয়। মেঘদূত শক্তিসংঘে এখনও তৃণমূল নেতৃত্বের প্রভাব রয়েছে। মাইকেলনগরের নেতাজি সংঘের পুজোর সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন বিধায়ক রথীন ঘোষ। ক্লাবের ৫৯তম বর্ষে এবার মণ্ডপসজ্জায় উঠে আসছে কর্নাটকের উদুপি কৃষ্ণমন্দির। মন্দিরের বিখ্যাত ‘কনকন কিন্ডি’র প্রতিরূপও থাকছে মণ্ডপে। সঙ্গে থাকছে নজরকাড়া আলোকসজ্জা। পুজোর শেষ দিনে প্রায় দু’হাজার মানুষের পংক্তিভোজের আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা।
সব মিলিয়ে মধ্যমগ্রামের কালীপুজোয় এবার লড়াই শুধু থিম আর আলোর নয়, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রভাবেরও। উৎসবের আবহে তাই মণ্ডপে মণ্ডপে চোখ রাখার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের নজরও থাকছে ক্লাবগুলির ক্ষমতার অলিন্দে।





