কলকাতা, ২ নভেম্বরঃ সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই চাঞ্চল্য রাজ্য বিধানসভায়। সোমবার সকালে বিধানসভার ক্যান্টিনের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হল এক কর্মীর নিথর দেহ। মৃতের নাম উমেশচন্দ্র দাস (৬২)। দীর্ঘক্ষণ শৌচালয়ের দরজা বন্ধ থাকার পর সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, মেঝেতে পড়ে রয়েছে উমেশের দেহ। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। খবর পেয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভার ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে একটি ঠিকাদার সংস্থা। সেই সংস্থার অধীনেই কাজ করতেন উমেশচন্দ্র। প্রায় ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কর্মরত ছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি কলকাতার তিলজলা এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্টিনেই থাকতেন এবং রাতেও সেখানেই ঘুমোতেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শৌচালয়ে যান উমেশ। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় সন্দেহ হয় অন্য কর্মীদের। শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে উমেশের নিথর দেহ। সঙ্গে সঙ্গে বিধানসভার সচিব ও মার্শালকে খবর দেওয়া হয়। খবর যায় হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বয়সজনিত কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে উমেশের। দেহে বাইরে থেকে আঘাতের কোনও চিহ্ন মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হতে পারে।
ঘটনার কথা জানানো হয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে। মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ও বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছেন। আপাতত যে শৌচালয় থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি এবং সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
বিধানসভায় এই মুহূর্তে অধিবেশন না থাকায় সাধারণের যাতায়াত তুলনামূলক কম। তবে আইনসভার অন্দরে কর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই মিলতে পারে তার উত্তর।





