নয়াদিল্লী, ১ নভেম্বরঃ রাজনীতিতে শব্দেরও আলাদা তাৎপর্য থাকে। বিশেষ করে যখন সেই শব্দ উচ্চারিত হয় বিরোধী ঐক্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ‘আমার নেত্রী’ বলে সম্বোধন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে বললেন নেতা। আর রাহুল গান্ধীর প্রশংসায় ব্যবহার করলেন ‘ইয়ং লিডার’ শব্দবন্ধ। মমতার এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। তবে কি বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পথে হাঁটছে তৃণমূল?
রামলীলা ময়দানে এ দিন বিরোধী জোটের মঞ্চে মমতার উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একই হুডখোলা বাসে সভাস্থলে পৌঁছন তিনি। রাহুলের আসনের ঠিক পিছনেই ছিলেন তৃণমূলনেত্রী। মঞ্চে উঠে সোনিয়া, খাড়গে ও রাহুলের পাশাপাশি অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, আইনজীবী, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাম নেতৃত্বের আন্দোলনকেও সাধুবাদ জানান তিনি। জেন-জি-সহ তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাও বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন মমতা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতার এই শব্দচয়ন নিছক সৌজন্য বিনিময় নয়। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতা দখলের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এই আবহে মমতার ঘনঘন দিল্লি সফর এবং বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও বাংলার রাজনীতিতে দুই দলের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার বার্তা আর রাজ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা দুই বিষয় এক নয়। তবু রামলীলা ময়দানের মঞ্চে মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, আপাতত বিরোধী ঐক্যের প্রশ্নে দূরত্ব ঘোচানোর বার্তাই দিতে চাইছেন তিনি। সোনিয়াকে ‘আমার নেত্রী’ বলা কি সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরই ইঙ্গিত? উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনীতিতে।





