কলকাতা, ১ নভেম্বরঃ রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ভোটের হিংসা কিংবা নির্বাচন পরবর্তী অশান্তি গত আড়াই দশকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের। সেই নিহতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে রাজনৈতিক হিংসায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নবান্ন। নির্দিষ্ট শর্ত মেনে আবেদন করলে মিলতে পারে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের মধ্যে একজন এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আবেদন করতে পারবেন মৃতের স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে কিংবা মেয়ে। এমনকি মৃত্যুর আগে আইনত দত্তক নেওয়া সন্তানও এই সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর, অধিদপ্তর, কালেক্টরেট এবং অন্যান্য সরকারি অফিসে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
তবে চাকরি পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে আবেদনকারীকে। সরকারের নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্র, আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ঘটনার এফআইআর এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে পেশ করা চার্জশিট। আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করবে জেলা স্তরের স্ক্রিনিং কমিটি। পাশাপাশি পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াও বাধ্যতামূলক।
জেলা স্তরের স্ক্রিনিং কমিটির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে আবেদনকারীর জন্য রয়েছে আপিলের সুযোগ। সিদ্ধান্তের ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফর্ম-বি পূরণ করে রাজ্য স্তরের কমিটির কাছে আবেদন জানানো যাবে।
চাকরি পাওয়ার পরেও থাকবে কিছু দায়িত্ব। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চাকরিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফর্ম-সি জমা দিতে হবে। সেখানে নিহত ব্যক্তির পরিবারের অন্য নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।
রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো মানুষদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর।





