মুর্শিদাবাদ, ২ নভেম্বরঃ বাবরি মসজিদ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যেন কিছুতেই কমছে না। বরং ৬ ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসছে, ততই সুর চড়াচ্ছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবার সরাসরি জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার হুঙ্কার দিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
রবিবার বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়-ব্যয়ের হিসেব সংক্রান্ত একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘‘বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেব। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক। মুর্শিদাবাদের প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে রুখে নেবেন। ওই দিন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার আমার কবজায় থাকবে।’’ শুধু হুঁশিয়ারিই নয়, আগামী ৬ ডিসেম্বর মুসলিম সমাজের সকলকে তাঁর সঙ্গে রাস্তায় নামার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের দাবি, এর আগে বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। কৃষ্ণনগর, ডোমকল, জলঙ্গি, সাঁইথিয়া, কান্দি-সহ একাধিক রুটে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাঁর বক্তব্য, অতীতের মতো এ বারও কেউ আইনশৃঙ্খলা ভাঙবেন না।
উল্লেখ্য, গত বছর তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করেন হুমায়ুন কবীর। ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর দিনটিকে সামনে রেখে নিজের এলাকা বেলডাঙায় মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ দিন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান বিধায়ক। তাঁর দাবি, প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দোতলা মসজিদ তৈরি হচ্ছে। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের নমাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। মসজিদ চত্বরেও আরও ২০ হাজার মানুষের নমাজের বন্দোবস্ত করা হবে। পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের থাকার জন্য বেসমেন্টে ঘর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরোধের এই ঘোষণায় নতুন করে প্রশাসনিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।





