কলকাতা, ২ নভেম্বরঃ পুরভোটের লড়াইয়ে নামার আগেই ঘর গোছাতে তৎপর বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ঘিরে দলের অন্দরে যাতে অসন্তোষ বা গোষ্ঠীকোন্দল মাথাচাড়া না দেয়, তার জন্য এবার নিচুতলার মতামতকেই গুরুত্ব দিতে চাইছে রাজ্য নেতৃত্ব। উপর থেকে নাম চাপিয়ে দেওয়ার বদলে স্থানীয় নেতাদের পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা গোপনে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্য নেতাদের।
দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতা ও হাওড়ার প্রতিটি মণ্ডল পিছু একজন করে রাজ্য নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডলের অধীনে রয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি ওয়ার্ড। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলিতে কারা প্রার্থী হওয়ার যোগ্য, স্থানীয় স্তরে কাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি, সেই বিষয়ে নিচুতলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য নেতারা। তবে এই মতামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া গোপনে চালানো হবে, যাতে আগাম কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি না হয়।
এর পর সংগৃহীত নামের তালিকা জমা পড়বে সংশ্লিষ্ট জেলার সভাপতির কাছে। পাশাপাশি কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার এবং রাহুল সিনহার কাছেও পৌঁছবে সেই তালিকা। সবশেষে রাজ্য কোর কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
সম্প্রতি বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল দলীয় বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে কোনও একক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। এমনকি এলাকার বিধায়কের সুপারিশকেও একমাত্র মাপকাঠি করা হবে না বলে দলীয় স্তরে বার্তা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক মতামতকেই গুরুত্ব দিতে চাইছে নেতৃত্ব।
তবে প্রার্থী বাছাইয়ের অঙ্কে আরও একটি বিষয় ভাবাচ্ছে বিজেপিকে। তা হল, তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের দলে এনে টিকিট দেওয়া। কলকাতায় প্রায় ২২ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় প্রভাব ভোটে কতটা কাজে আসবে, তার পাশাপাশি পুরনো কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও খতিয়ে দেখছে নেতৃত্ব।
সব মিলিয়ে পুরভোটের লড়াই শুরুর আগেই প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে সতর্ক পদক্ষেপ বিজেপির। ভোটের ময়দানে বিরোধীদের মোকাবিলার আগে নিজেদের ঘরের অঙ্ক মেলানোই এখন পদ্মশিবিরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।





