কলকাতা, ২ নভেম্বরঃ দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের সদস্যদের ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদের পরিধি। শনিবার লালবাজারে ডেকে পাঠানো হয়েছিল তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে। এবার তদন্তকারীদের নজরে প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়ে আভেরি সেন। সোমবার তাঁকে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সূত্র মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সেই লেনদেনের উৎস ও উদ্দেশ্য জানতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান গোয়েন্দারা।
ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর গ্রেপ্তারের তিন দিনের মধ্যেই শনিবার স্ত্রী মধুছন্দাকে জেরা করে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তকারীদের দাবি, যে ‘মাস আর্ট’ সংস্থার মাধ্যমে পুজোর পাস বিক্রির ব্যবস্থা হয়েছিল, তার প্রেসিডেন্ট ছিলেন মধুছন্দা। ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয় থেকে শুরু করে সংস্থার বিভিন্ন নথিতে তাঁর সই রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে একাধিক সংস্থার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও। পুলিশের দাবি, ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সংস্থা ‘থার্ড লাইন ক্রিয়েশন’ থেকে ‘মাস আর্ট সোসাইটি’-র অ্যাকাউন্টে ৬৬ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ২২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা গিয়েছিল ‘আইস্কেপ’ ও ‘মায়রা’ নামে দুটি সংস্থায়। গোয়েন্দাদের দাবি, এই দুই সংস্থার নিয়ন্ত্রণ ছিল ইন্দ্রনীলের মেয়ের হাতে। সেই সূত্রেই এবার আভেরিকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত।
শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের। ইতিমধ্যে কয়েক জন পুজো উদ্যোক্তার বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ইউনেস্কোর লোগো দেখে তাঁরা প্রিভিউ শো-তে অংশ নিতে রাজি হয়েছিলেন। মাস আর্টের কর্মীরা মণ্ডপে গিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। বিনিময়ে সামান্য অর্থ এবং এলইডি গেট বসানোর সুযোগ দেওয়া হত। সেই গেটে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরিবর্তে দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকা দেওয়ার কথাও সামনে এসেছে।
অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের পাস বিক্রির আয়োজন হলেও তার তুলনায় সামান্য অর্থ পেয়েছিলেন পুজো উদ্যোক্তারা। কোথায় গেল বাকি টাকা? কোন সংস্থার মাধ্যমে কীভাবে হয়েছে আর্থিক লেনদেন? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এবার তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে লালবাজার। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত নয়।





