কোচবিহার, ১ নভেম্বরঃ বিচ্ছিন্ন সংগঠন, আলাদা আলাদা দাবি রাজবংশী সমাজের এই বিভাজন ঘুচিয়ে ঐক্যের মঞ্চ গড়ার উদ্যোগ। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনকে এক ছাতার তলায় আনতে রবিবার কোচবিহারের ল্যান্সডাউন হলে আয়োজিত হল ‘রাজবংশী মহাসংঘ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। উদ্যোগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, আয়োজনে গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক গিরিজাশঙ্কর রায়, জেলাশাসক জিতিন যাদব, কেএসডিসি নেত্রী তপতী রায় মল্লিক-সহ ২২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
রাজবংশী সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি এবং উন্নয়নের ভাবনা নিয়ে একটি অরাজনৈতিক সামাজিক মঞ্চ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত ও সমস্যার কথা তুলে ধরবেন। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলি নথিবদ্ধ করা হবে। পরবর্তী সময়ে সেই তথ্য গবেষণা এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ, কেবল দাবি-দাওয়ার আলোচনা নয়, রাজবংশী সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য একটি অভিন্ন মঞ্চ তৈরির ভাবনাও রয়েছে এই উদ্যোগে।
অন্যদিকে, বংশীবদন বর্মনের বক্তব্য, রাজবংশী সমাজের বিভিন্ন ছোট ছোট সংগঠনকে একত্রিত করে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করাই এই সভার উদ্দেশ্য। সংগঠনগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থে সবাইকে একই মঞ্চে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ দিনের আলোচনায় উঠে আসে রাজবংশী ভাষার নামকরণের প্রশ্নও। ভাষার নাম ‘রাজবংশী’ হবে, না কি ‘কামতাপুর’ তা নিয়ে প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। কংসরাজ বর্মন কামতাপুর ভাষার নামের পক্ষেই মত প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজবংশী সমাজের পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি এবং উন্নয়ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে এই মহাসংঘের আলোচনা সভা ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে এক মঞ্চে আসার এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী ঐক্যের রূপ নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের আলোচনা ও সংগঠনগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর।





