নয়াদিল্লী, ১ নভেম্ভরঃ দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে রবিবার কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তাঁর ঘোষণা, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য আপনারা।’’ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মহাসমাবেশে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে সরাসরি বার্তা দিয়ে রাহুল মনে করিয়ে দিলেন, ক্ষমতা বা অর্থবলের জোরে কেউই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।
রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকে সংবিধানকে দেশের সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, মোদী ও শাহকে এই বার্তা দিতেই বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীরা একজোট হয়েছেন। যতই ক্ষমতাশালী মনে হোক না কেন, দেশের সংবিধানের উপরে কারও স্থান হতে পারে না।
এর পরেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সাহায্য ছাড়া নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কিংবা অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া সম্ভব হত না। ভোটার তালিকা থেকে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি একে সাধারণ অনিয়ম নয়, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ এবং ‘বিরল থেকে বিরলতম অপরাধ’ বলে অভিহিত করেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তীসগঢ়, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও তোলেন তিনি।
অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রাহুল বলেন, মোদীকে কেউ কোথাও যেতে দেবে না এমন বক্তব্যের কোনও গুরুত্ব নেই। তাঁর দাবি, প্রথমে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে জেলে পাঠানোর দাবিও তোলেন রাহুল। তার পরেই মোদী-শাহের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুধু নির্বাচন নয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও আদানি গোষ্ঠীর প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। রাহুলের অভিযোগ, দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা-সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি এক শিল্পগোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তিনি এমন ভারত চান, যেখানে কৃষক পরিশ্রমের ন্যায্য ফল পাবেন, পড়ুয়ারা যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ পাবেন।
শেষে নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে রাহুল বলেন, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘৃণা বা হিংসা নয়, সংবিধান রক্ষার লড়াইয়েই বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ রামলীলা ময়দান থেকে সেই বার্তাই দিতে চাইলেন তিনি।





