অশোকনগর, ১ নভেম্বরঃ মতুয়া সমাজের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবিকে সামনে রেখে ঠাকুরনগর থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় সমস্ত আবেদনকারীর শুনানি শেষ করে শংসাপত্র দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন তিনি। শুধু নাগরিকত্ব নয়, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার ঠাকুরবাড়িতে আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে তাঁর এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সরকার শুধু বিজেপির নয়, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরও। সিএএ নিয়ে কাউকে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীর শুনানি বাকি রয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে যোগ্য আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তফসিলি জাতিভুক্তদের এসসি শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও কোনও বাধা থাকবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সিএএ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ দেশে সিএএ কার্যকর হলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে রাজ্যে সেই প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতি পায়নি। মতুয়া সমাজের মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। গুজরাত ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে সিএএ কার্যকরের জন্য রাজ্য সরকারকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, বাংলাতেও সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুধু নাগরিকত্বের শংসাপত্র দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে না সরকার, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী জানুয়ারিতে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রয়োজনীয় নথি তৈরিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঠাকুরবাড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা মতুয়া সমাজের কাছে কতটা স্বস্তির বার্তা হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





