বীরভূম, ২ নভেম্বরঃ থানায় থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজো করতে হবে সিউড়িতে জেলা পুলিশের এক অনুষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনার মুখে এবার নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি সাজালেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, থানায় কালীপুজো কোনও ধর্মীয় কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুলিশি সংস্কৃতিরই অংশ। একই সঙ্গে অতীতের বাম ও তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় জগন্নাথের সাফ কথা, “যা বলেছি, বেশ করেছি। সঙ্গত কারণ আছে বলেই বলা হয়েছে। আজন্মকাল থানায় থানায় কালীপুজো হয়ে আসছে। পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ থানায় কালীপুজো করা।” তাঁর বক্তব্য, বাঙালির সামাজিক জীবনে যেমন স্কুলে স্কুলে সরস্বতী পুজোর প্রচলন রয়েছে, তেমনই থানায় কালীপুজোরও একটি নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। এর সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এই আয়োজন পুলিশ বাহিনীকে শক্তি জোগাবে বলেই তাঁর দাবি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের প্রসঙ্গ টেনেছেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাম আমলে থানায় কালীপুজো নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখানো হয়নি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে পৃথক সংখ্যালঘু দফতর তৈরি এবং পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। জগন্নাথের দাবি, সেই সময় থানায় কালীপুজো করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে গত বছরের কালীপুজোর একটি ঘটনাও। মন্ত্রীর কথায়, গত কালীপুজোয় মা কালীর প্রতিমাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার ছবি গোটা রাজ্য দেখেছে। সেই ঘটনার উল্লেখ করেই তাঁর মন্তব্য, বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশকে যেন তার ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে হয়।
প্রসঙ্গত, বুধবার সিউড়ি থানার বিজয়া সম্মিলনীতে জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে মন্ত্রী বলেছিলেন, বীরভূমের প্রতিটি থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজো হওয়া উচিত। রঘু ডাকাতের কালীপুজোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুলিশকেও শক্তির উপাসক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, থানায় কালীপুজোর মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্ন খোঁজার প্রয়োজন নেই। বীরভূমের সতীপীঠগুলির ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
তবে মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। থানায় কালীপুজোকে পুলিশি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি অতীতের সরকারগুলিকে আক্রমণ দুইয়ের সংমিশ্রণেই বিষয়টি ধর্ম, প্রশাসন ও রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।





