কলকাতা, ২৯ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যের একাধিক জেলায় অশান্তির ছবি সামনে এল বুধবার। নদিয়ার চাপড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে শুরু করে কলকাতার এন্টালি ও কালীঘাট বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, বিক্ষোভ এবং ইভিএম বিভ্রাটে উত্তেজনা ছড়ায়।
কলকাতার এন্টালিতে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা তিবরেওয়াল-কে ঘিরে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, বুথের ভিতরে জায়গা কম থাকার কারণে তাঁর এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আধিকারিক ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বুথের ভিতরেই তৃণমূলের এজেন্টের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’পক্ষের প্রতিনিধিকেই বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কালীঘাটে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী-কে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীদের দিকে দৌড়ে যান তিনি, যার জেরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে আইএসএফ প্রার্থীকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে নদিয়ার চাপড়ায় বিজেপি এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
এই দফার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী এই লড়াইকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক বুথে ইভিএম বিভ্রাটের খবরও এসেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদানের পর দ্বিতীয় দফাতেও ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। বেলা ১টা পর্যন্ত ভোটের হার পৌঁছেছে ৬১.১১ শতাংশে।
সবমিলিয়ে, অশান্তি ও বিতর্কের মাঝেও ভোটের দিন রাজ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এখন নজর দিনের শেষে ভোটের হার ও সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর।





