খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বরঃ ইভিএম নয়, আসল ভোটচুরি হচ্ছে ভোটার তালিকায় এই অভিযোগ তুলে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে রয়েছে ভোটার তালিকায় কারচুপি, যা বিরোধীরা ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
অভিষেক বলেন, “ভোটচুরি ইভিএমে হচ্ছে না। ভোটচুরি হচ্ছে ভোটার লিস্টে। কংগ্রেস, আপ বা আরজেডি কেউই এই বিষয়টা ধরতে পারেনি বলেই বিজেপির স্ট্রাইক রেট ৮০ শতাংশ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেটা হবে না। তৃণমূল হাতেনাতে ভোটচুরি ধরে ফেলেছে।” তাঁর দাবি, তৃণমূল মাঠে নেমে লড়াই করেছে বলেই এই কারচুপি ধরা পড়েছে। শুধু টিভিতে বসে আলোচনা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে কিছু হবে না বলেও বিরোধীদের কটাক্ষ করেন তিনি।
পাশাপাশি অভিষেক অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই ডিসক্রিপ্যান্সি তালিকায় ১.৩ লক্ষ নাম খুঁজে পাওয়া গেল কীভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়াতেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে কারচুপি করা হয়েছে। “নির্বাচন কমিশনারদের হাতে তো কোনও জাদুকাঠি নেই,” ব্যঙ্গ করেন তৃণমূল নেতা।
সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক আরও জানান, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও মাত্র দুই থেকে তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর মিলেছে। বিশেষ করে এসআইআর শুনানিতে কেন বিএলএ-২-দের উপস্থিত থাকতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা বা সার্কুলার জারি করার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে কমিশন কেন সার্কুলার জারি করছে না, তার ব্যাখ্যাও দেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, সার্কুলার জারি হলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হতে পারে বলেই নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ ছড়াচ্ছে। কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেশ চালানোর চেষ্টা করছে বলেও তীব্র তোপ দাগেন তিনি।





