দিল্লি, ২৫ জুলাইঃ NEET পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক, ছাত্র আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনে বিদেশি অর্থসাহায্য বা বহিরাগত প্রভাবের অভিযোগ সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর যখন তুঙ্গে, তখনই বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল বিদেশ মন্ত্রক। শুক্রবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই অভিযোগের সমর্থনে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই।
এদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও আন্দোলনের মূল দাবি থেকে তাঁরা সরে আসবেন না। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই বর্তমান সংকট নিরসনের প্রথম শর্ত।
শুধু পদত্যাগ নয়, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, প্রবেশিকা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থার দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয় পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর। পরে কেন্দ্রের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেও, যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কেন্দ্রও একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের পরিকল্পনা, পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি রোধে নতুন আইনি কাঠামো এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
যে আন্দোলন শুরুতে সীমিত পরিসরের প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হয়েছিল, তা এখন জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপ এবং বিরোধী শিবিরের চাপের মধ্যে আগামী দিনে এই ইস্যু কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





