মুর্শিদাবাদ, ১ অক্টোবরঃ ভোটের আগে রেজিনগরে গিয়ে উন্নয়ন ও সম্প্রীতির বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বৃহস্পতিবার উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে তাঁর দাবি, সরকারি পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলিমের কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। রেজিনগরকে ফলতার ধাঁচে ‘মডেল বিধানসভা’ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা, শিল্পতালুক গড়ে তোলা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও সরকারি পরিষেবা সম্প্রসারণের একগুচ্ছ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। হুমায়ুন কবীর বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় রেজিনগর আসনটি শূন্য হয়। ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা হবে।
রেজিনগরের সভা থেকে শুভেন্দুর বার্তা, ‘‘৭০-৩০ শতাংশের গল্প শোনাবেন না। হিন্দু-মুসলিম করবেন না।’’ তাঁর দাবি, যোগ্য সংখ্যালঘু মহিলারাও অন্নপূর্ণা যোজনার মতো সরকারি সুবিধা পাবেন। আয়ুষ্মান-সহ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কোনও বৈষম্য থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রবাদ ও উন্নয়নকে সামনে রেখে রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, রেজিনগরের অর্থনীতিতেও জোর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বাইরে কাজ করতে যাওয়া প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে আগামী দু’বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ছ’মাসে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রেজিনগরে শিল্পতালুক তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেড় বছরের মধ্যে কারখানা চালুর আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রেজিনগরকে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মতোই দেখার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বক্তব্য, রেজিনগরের উন্নয়নের দায়িত্বও তিনি নিজের হাতে নিতে চান। নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে উন্নয়নের বার্তার পাশাপাশি সভা থেকে সরাসরি নিশানা করেছেন হুমায়ুন কবীরকে। তাঁর অভিযোগ, আগের বার হিন্দু-মুসলিমের বিভাজনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা হয়েছিল। সম্প্রতি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে হুমায়ুনের মন্তব্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।
রেজিনগরে এবার হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবী আজাদ লড়ছেন। বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। অন্য দিকে তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। ফলে উপনির্বাচনের আগে উন্নয়ন, পরিচয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণ তিনটি বিষয়ই রেজিনগরের প্রচারের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।





