নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবরঃ উপনির্বাচনের আগে চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের শিবির। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনে অন্তর্বর্তী স্বস্তি মিলল না। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত। তবে মূল মামলাটি দ্রুত শুনতে হাই কোর্টকে অনুরোধ করেছে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি বি বরালের বেঞ্চ।
চারটি অ্যাকাউন্টই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্তের পর সেগুলি ‘ডেবিট ফ্রিজ়’ করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টগুলি চালু করার অনুমতি চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতা-শিবির। ২৭ অগস্ট হাই কোর্ট অন্তর্বর্তী ভাবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে যায় দল।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর বক্তব্য, দলের দৈনন্দিন কাজ চালাতে মাসে প্রায় ১২.১৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। সামনে উপনির্বাচন। অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ় থাকায় দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
পাল্টা যুক্তিতে রাজ্যের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার নেপথ্যে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও পৃথক একটি বিরোধ বিচারাধীন। ফলে কোন গোষ্ঠী ওই অর্থ ব্যবহারের অধিকারী, সেই প্রশ্নও এখনই চূড়ান্ত ভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে কেন্দ্রের তরফে সওয়াল করা হয়।
শীর্ষ আদালত অবশ্য মামলার মূল বিষয় বা অভিযোগের মেরিটে যায়নি। বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, বিষয়টি যখন কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন, তখন এই পর্যায়ে সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখছে না তারা। বরং হাই কোর্টকে দ্রুত শুনানি শেষ করার অনুরোধ করেছে।
চারটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালত-সংক্রান্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগে ফ্রিজ় হওয়া অন্য কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমে অর্থ ব্যবহারের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হাই কোর্ট করেছিল বলেও জানা গিয়েছে।
ফলে বৃহস্পতিবারের নির্দেশে চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হল না। এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে।





