মুর্শিদাবাদ, ১ অক্টোবরঃ উপনির্বাচনের প্রচারে ফের প্রকাশ্যে এল শুভেন্দু অধিকারী বনাম হুমায়ুন কবীরের পুরনো সংঘাত। রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুমায়ুনের মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা সংক্রান্ত মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণের ভাষা রাজনীতিতে কাম্য নয়।
সভায় হুমায়ুনের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই লোককে ভোট দেবেন! শত্রু হলেও মুখে এই ভাষা আনি না।’’ এর পরেই রাজনীতির লড়াইয়ের পরিসরটিও ব্যাখ্যা করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয় এবং হবেও, বাক্য বিনিময় হবে, তর্ক হবে, আলোচনা-সমালোচনা হবে। একজন জিতবে, অন্যজন হারবে।’’
এর পরেই হুমায়ুনের সেই মন্তব্যের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, হুমায়ুন বলেছিলেন, ‘‘আমি প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করছি, অজিত পাওয়ারের মতো মুখ্যমন্ত্রী তাড়াতাড়ি উপরওয়ালার কাছে চলে যান।’’
হুমায়ুনের এই ধরনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এর আগেও রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জুনে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। রেজিনগর ও শক্তিপুরে হুমায়ুনের বক্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গও প্রকাশ্যে এসেছিল।
এ বার সেই রাজনৈতিক টানাপড়েনই জায়গা করে নিল রেজিনগরের উপনির্বাচনের প্রচারে। হুমায়ুন কবীর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং নওদা দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপির প্রচারে এসে সেই আসনেই হুমায়ুনকে নিশানা করলেন শুভেন্দু।
ফলে উন্নয়ন, রাজনৈতিক ভাষা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রশ্ন তিনটিই মিলেমিশে রেজিনগরের উপনির্বাচনী প্রচারে নতুন করে সামনে এল। একদিকে বিজেপির প্রার্থীর সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার, অন্যদিকে হুমায়ুনকে ঘিরে পুরনো বিতর্ক উপনির্বাচনের উত্তাপ যে ক্রমেই বাড়ছে, এ দিনের সভাতেও তারই প্রতিফলন দেখা গেল।





