কলকাতা, ১ অক্টোবরঃ হাতে আর মাত্র ন’দিন। ১০ অক্টোবর মহালয়া। তার আগেই কলকাতার বেহাল রাস্তার চেহারা বদলাতে রাতদিন এক করে কাজে নামছে পুরসভা। কারণ, পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। আর পুজোর আবহেই ইডেনে শারদোৎসবের মেগা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে কলকাতায় আসার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তার আগে শহরের রাস্তাঘাটের হালহকিকত খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শনে নামতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীও এমনই খবর প্রশাসনিক সূত্রে।
পুরসভা সূত্রে খবর, মহালয়ার আগেই ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড়শো রাস্তা সারানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভার সড়ক বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে মূলত রাতেই চলবে মেরামতির কাজ। তুলনামূলক কম ব্যস্ত রাস্তা এবং ছোট গলিতে দিনের বেলাতেও কাজ চালানো হবে।
মেরামতির তালিকায় রয়েছে ধর্মতলা, বিবাদী বাগের অফিসপাড়ার একাধিক রাস্তা, আশুতোষ মুখার্জি রোড, ইএম বাইপাস, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, এনএসসি বোস রোড এবং রাজা এসসি মল্লিক রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ। চিংড়িঘাটা ও ইএম বাইপাস ক্রসিং এবং চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের বেশ কিছু অংশে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথাও প্যাচওয়ার্ক, কোথাও আবার প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নতুন করে মেরামত করা হচ্ছে।
কলকাতার বেহাল রাস্তা নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এবার বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে সেই সমস্যা আরও বেড়েছে বলে পুরসভার দাবি। বৃষ্টির জেরে একাধিক জায়গায় মেরামতির কাজও ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যেই কলকাতা পুলিশের তরফে খারাপ রাস্তার তালিকা পুরসভার কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকা ধরেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ এগোচ্ছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
মহালয়ার আগে শহরকে যতটা সম্ভব মসৃণ করে তোলাই এখন পুরসভার লক্ষ্য। বিশেষ করে পুজোর সময়ে শহরের রাস্তায় বাড়বে মানুষের ভিড় এবং যান চলাচল। তার উপর প্রধানমন্ত্রীর সফর। ফলে সময়সীমা কার্যত বেঁধে দিয়েছে পরিস্থিতিই।
তবে কলকাতায় এই তৎপরতা দেখা গেলেও হাওড়া ও বিধাননগরের মতো পুর এলাকায় একই রকম উদ্যোগ এখনও চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পুজোর আগে সব শহরেই রাস্তার হাল ফেরানো হবে কি না, এখন সেটাই প্রশ্ন।





