আবদুল হাই, বাঁকুড়া: বয়স মাত্র পাঁচ বছর। তবুও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ, স্পষ্ট উচ্চারণ আর ভাবের গভীরতায় সকলকে মুগ্ধ করে দিল এক ক্ষুদে ছাত্রী। বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের শিমুলিয়া বাগদী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্-প্রাথমিক বিভাগের ছাত্রী ঐকতা নন্দী আজ আলাদা করে নজর কেড়েছে শিক্ষক, অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের।
স্কুলের নিয়মিত পঠনপাঠন শুরু হওয়ার আগেই ঐকতা সাম্যের গান ও কবিতা আবৃত্তি করে শোনায়। ছোট্ট শরীর হলেও কবিতা বলার সময় তার চোখেমুখে ছিল দৃঢ়তা ও আবেগের স্পষ্ট ছাপ। প্রতিটি পংক্তি সে এমন সাবলীলভাবে উপস্থাপন করে যে উপস্থিত সকলের মনে হয়েছে,শব্দগুলো সে কেবল মুখস্থ করে বলেনি, হৃদয় দিয়ে অনুভব করেই বলেছে। তার কণ্ঠে সাম্য, মানবতা ও একতার বার্তা যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে।
এই অসাধারণ পরিবেশনা দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এত অল্প বয়সে এমন পরিণত প্রকাশভঙ্গি সত্যিই বিরল। অভিভাবকরাও ঐকতার আত্মবিশ্বাস ও মেধার প্রশংসা করেন। গ্রামবাসীদের অনেকেই বলেন, এমন প্রতিভা শিমুলিয়ার গর্ব। সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে ঐকতা ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।
ঐকতার বাড়ি শিমুলিয়া গ্রামেই। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই সে গান ও কবিতার প্রতি আগ্রহী। বাড়ির পরিবেশ এবং বিদ্যালয়ের সহানুভূতিশীল শিক্ষাদান তার এই বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছেন, ঐকতার প্রতিভাকে আরও বিকশিত করতে তারা সর্বতোভাবে পাশে থাকবেন।
শিমুলিয়া গ্রামের এই ক্ষুদে মেয়েটি প্রমাণ করে দিল প্রতিভার জন্য বয়স কোনও বাধা নয়। সুযোগ, উৎসাহ আর ভালোবাসার পরিবেশ পেলে যে কোনও শিশুই নিজের ভিতরের আলো ছড়াতে পারে। আজকের এই পাঁচ বছরের ঐকতা নন্দীই আগামী দিনে হতে পারে এলাকার গর্ব ও অনুপ্রেরণা।





