কলকাতা, ১০ আগস্টঃ রাজনীতির মঞ্চে বিরোধিতা তীব্র। একে অপরকে আক্রমণও নিত্যদিনের। কিন্তু সেই রাজনৈতিক সংঘাতের মাঝেও নিরাপত্তার প্রশ্নে যেন অন্য ছবি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে এ বার প্রকাশ্যেই উদ্বেগ জানালেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগের পর সোমবার তাঁর উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা যেখানেই যান, আগে পুলিশকে জানান। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
রবিবার হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়িতে গিয়েছিলেন মমতা। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন। কিন্তু এলাকায় ঢোকার মুখেই বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর কনভয়। অভিযোগ, গাড়ি লক্ষ্য করে জল, কাদা, পাথর এবং জুতো ছোড়া হয়। ওঠে ‘চোর’, ‘ডাকাতরানি’ স্লোগানও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।
রবিবারই সেই ঘটনায় মমতাকে কটাক্ষ করেছিলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘‘এত চুরি করেছেন, চোর স্লোগান তো শুনতেই হবে।’’ একই সঙ্গে মমতার হালিশহরে যাওয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল সুর। সোমবার হালিশহরে নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই মমতার নিরাপত্তার প্রসঙ্গ ওঠে। শুভেন্দুর বক্তব্য, মমতা আগাম পুলিশকে জানালে প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ, ‘‘আপনি যেখানে খুশি যাবেন। কিন্তু তার আগে সময়মতো পুলিশকে জানাবেন। পুলিশ প্রয়োজনমতো যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।’’ শুভেন্দু আরও জানান, রবিবার মমতার সফরের খবর স্থানীয় বিধায়ক জানতে পারার পর পুলিশকে জানানো হয়েছিল এবং পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁর যুক্তি, পুলিশ সব জায়গায় একই সঙ্গে থাকতে পারে না, পরিস্থিতি সামলাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিরোধ অবশ্য থেমে নেই। বিরজুর মৃত্যু ঘিরে তৃণমূলের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল। অন্য দিকে, রাজ্য প্রশাসন তদন্তের পথে এগোচ্ছে। এর মধ্যেই মমতার নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা রাজনৈতিক ভাবে আলাদা তাৎপর্য তৈরি করেছে।
ক্ষমতার পালাবদলের পরে দু’জনের রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। তবু নিরাপত্তার প্রশ্নে শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে এল প্রশাসনিক দায়িত্বের কথাই। রাজনৈতিক আক্রমণ থাকুক, মতবিরোধ থাকুক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি নয়, এমনই বার্তা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর। হালিশহরের উত্তপ্ত রাজনীতির মাঝেই তাই আপাতত আলোচনায় একটি অন্য ছবি প্রাক্তনের নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানের দায়িত্ববোধ।





