গঙ্গাসাগর, ৫ জানুয়ারিঃ এসআইআর ইস্যুতে এবার সরাসরি আদালতে যাওয়ার হুমকি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার গঙ্গাসাগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার আদালত খুললেই তিনি এই বিষয়ে আইনি পথে হাঁটবেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেই সওয়াল করবেন বলেও ঘোষণা করেন মমতা, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, “এ লড়াই বাঁচার লড়াই। আমরা আইনের সাহায্য নিচ্ছি এবং সেই পথেই হাঁটব। আগামিকাল কোর্ট খুলবে। এত মানুষের মৃত্যু, এত মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজনে আমি নিজেই আবেদন করব। আইনজীবী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আদালতে যাব। কথা বলার অনুমতি নেব। গ্রাউন্ড লেভেলে কী চলছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করব।”
এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তা নিয়ে এদিন সরব হন তিনি। মমতার দাবি, সবাই চান ভোটার তালিকায় নাম তুলতে, কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া এত দ্রুত না করে অন্তত দু’বছর সময় নিয়ে করা উচিত ছিল।
নাম না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঙ্কার, “মিস্টার ভ্যানিশ কুমার, নো ডিটেনশন ক্যাম্প ইন বেঙ্গল।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরোধিতা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস কোনওভাবেই পিছিয়ে আসতে রাজি নয়। প্রয়োজনে আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মানুষের স্বার্থ রক্ষার লড়াই চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
এই ঘোষণার পর এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েন আরও বাড়ল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মঙ্গলবার আদালতে কী পদক্ষেপ নেয় রাজ্য সরকার, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।





