কলকাতা, ৩০ এপ্রিলঃ বুধবার অনুষ্ঠিত হল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এদিন ৭টি জেলার মোট ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট হয়। তবে শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা থাকলেও দিনভর বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এসেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, অনেক জায়গায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা হয়েছে, এমনকী মহিলা ও শিশুদের মারধরের ঘটনাও সামনে এসেছে। উদয়নারায়ণপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশকেও এদিন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথের বাইরে গণ্ডগোল সৃষ্টি, অশান্তির চেষ্টা এবং ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে মোট ৬৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারির নিরিখে শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর, যেখানে ৭৬ জনকে আটক করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে পূর্ব বর্ধমান, সেখান থেকে ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, ইভিএম কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। কমিশনের কাছে মোট ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ইভিএমের বোতামে টেপ লাগানো বা কালি লাগানোর মতো ঘটনা রয়েছে। ফলতা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ৩২টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি এবং মগরাহাটে ১৩টি বুথে একই ধরনের অভিযোগ এসেছে।
এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে ভোটের ফল ঘোষণার আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।





