নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: প্রতীক কার? আসল তৃণমূলই বা কোনটি? এই টানাপোড়েনের মাঝেই সংঘাত পৌঁছল আইনের দোরগোড়ায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরের বিরুদ্ধে কলকাতার তিনটি থানা এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগে মোট চারটি এফআইআর দায়ের করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল। অভিযোগ, দলীয় প্রতীক ও ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সাংগঠনিক নিয়ম না মেনেই অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপার্সন ঘোষণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
গত কয়েক দিন ধরেই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে ধারাবাহিক বৈঠক করে চলেছে ঋতব্রত শিবির। বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচিও হয়েছে। সম্প্রতি নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠক থেকে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন ঘোষণা করা হয়। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই নিউ টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শনিবার তপসিয়ার বৈঠককে ঘিরে প্রগতি ময়দান থানাতেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কালীঘাট থানা এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগেও পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে কালীঘাট শিবির।
কালীঘাটের দাবি, ২০২২ সালের সাংগঠনিক সম্মেলনে প্রতিনিধিদের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজীবন চেয়ারপার্সন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকা অবস্থায় কোনও বিশেষ অধিবেশন ছাড়া নতুন চেয়ারপার্সন ঘোষণার সুযোগ নেই। তাই অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন ঘোষণা এবং ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহার দু’টিই দলের সংবিধানবিরোধী বলে দাবি তাঁদের। যদিও ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশনই।
এখন সংঘাত শুধু রাজনৈতিক ময়দানে নয়, আইনের আদালতেও। শেষ পর্যন্ত ‘ঘাসফুল’-এর প্রকৃত অধিকার কার হাতে থাকবে, তার উত্তরই ঠিক করতে পারে বাংলার রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ।





