নদীয়া, ১৩ আগস্টঃ সরকারি ও ভেস্টেড জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ। সেই মামলায় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ, কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ-সহ একাধিক নেতা। বুধবার কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতের বিচারক তরুণ কুমার মণ্ডল অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলাকারী কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষের অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে নদিয়ার কালীগঞ্জ ব্লক এবং মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি ও ভেস্টেড জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। প্রায় ৩৩ হাজার বিঘা জমি এই কারবারের আওতায় এসেছে বলেও দাবি তাঁর। এর ফলে বিপুল আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।
শুধু মাটি নয়, ওই সমস্ত এলাকায় সরকারি জমিতে থাকা গাছও কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলাকারী। তাঁর দাবি, এতে সরকারি সম্পত্তির পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ এবং বন দফতর-সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলে দাবি বাপন ঘোষের। উল্টে তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
রাজ্যে পালাবদলের পর অভিষেক-সহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানির পরই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
অন্য দিকে, কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে।
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, আদালতে অভিযোগগুলি তুলে ধরা হয়েছিল এবং তার ভিত্তিতেই পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা কতটা, সেটাই নজরে।





