বীরভূম, ১৩ আগস্টঃ একসময় বিলাসবহুল বাড়ির সামনে ছিল স্বাভাবিক ব্যস্ততা। এখন সেখানে আদালতের হুলিয়ার নোটিস। সিউড়ির সুভাষপল্লিতে নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের ‘ডালিলা ভবন’-এর সামনে বৃহস্পতিবার সেই নোটিস সাঁটল পুলিশ। মহম্মদবাজারে তাঁর নামে থাকা বাড়ি এবং সম্ভাব্য কয়েকটি ঠিকানাতেও একই ভাবে নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
আদালতের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তাঁকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ, গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় এসিজেএম আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, অপরাধের প্রমাণ নষ্ট, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং জালিয়াতির মতো একাধিক অভিযোগের কথা আদালতের নথিতে রয়েছে। তবে অভিযোগগুলি এখনও বিচারাধীন।
মামলার সূত্রপাত ডেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায়। তদন্তে টুলুর নাম উঠে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা প্রায় ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। ইতিমধ্যে ছ’জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁদের বয়ান ও তল্লাশিতে পাওয়া নথির ভিত্তিতে তদন্তকারীদের দাবি, গোটা ঘটনার নেপথ্যে টুলুর নেতৃত্বাধীন একটি ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করেছে।
পুলিশের আরও দাবি, গ্রেফতার এড়াতে টুলু বিদেশে আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আবেদন করেছিলেন বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে শুরু হয়েছে প্রকাশ্যে নোটিস দেওয়া ও মাইকিং।
অন্য দিকে, টুলুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। ফলে এক দিকে নিম্ন আদালতের হুলিয়া, অন্য দিকে হাই কোর্টে আইনি লড়াই দুই পথেই এখন নজর। ১৪ সেপ্টেম্বর টুলু আদালতে হাজির হন কি না, নাকি আইনের অন্য পথ বেছে নেন, সেটাই এখন দেখার।





