নিজস্ব সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: রবিবার আচমকাই খাদ্য দফতরের দোতলা থেকে বেরোতে শুরু করে ধোঁয়া। মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে পোড়া গন্ধ। আতঙ্কে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর যায় দমকল ও পুলিশে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাথাভাঙা মহকুমা খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের একটি কক্ষে আগুন লাগার ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, সকালবেলায় মাথাভাঙা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দফতরের দ্বিতল থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেই তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় মাথাভাঙা দমকল কেন্দ্র ও থানায়। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। খবর ছড়াতেই দফতর চত্বরে ভিড় জমে যায় কৌতূহলী মানুষের।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আগুনে একটি কক্ষে থাকা দুটি কম্পিউটার, একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং বেশ কিছু সরকারি নথিপত্র পুড়ে গিয়েছে। ঠিক কী ধরনের নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা তার আর্থিক মূল্য কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
ঘটনার খবর পেয়ে দফতরে পৌঁছান বিজেপির মাথাভাঙা শহর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক শিবশঙ্কর সাহা-সহ দলের অন্যান্য নেতারা। শিবশঙ্কর সাহার দাবি, শুধু অগ্নিকাণ্ড বলেই বিষয়টিকে দেখে থেমে গেলে চলবে না। গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার ঘটনায় কোনও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসা জরুরি।
অন্য দিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই দফতর চত্বরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। বাউন্ডারি ওয়াল নেই, নেই কোনও স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষীও। রাতের বেলায় সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে বলেও অভিযোগ তাঁদের। সেই কারণেই আগুনের ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও অন্য একাংশের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেও আগুন লাগতে পারে।
তবে প্রশাসনের তরফে এখনও আগুন লাগার কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার প্রয়োজন আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।





