নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, জমি দখল, বেআইনি কারবার সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হতে সোমবার বিধানসভায় আসছে নতুন আইন। ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ বা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, বিল আইনে পরিণত হলে অপরাধমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথ আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের ক্ষমতাও বাড়বে।
সরকারি মহলের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি, বেআইনি দখল, সিন্ডিকেট রাজ, প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ উত্তোলন এবং সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনে সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বৈধ ব্যবসায় বাধা দেওয়া, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, এমনকি সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গেও এই আইনের যোগসূত্র রাখা হয়েছে।
বিলের খসড়া অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা গ্যাং যদি অভ্যাসগত ভাবে এ ধরনের অপরাধে যুক্ত থাকে, তবে তাকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ থাকবে। অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদেরও এই আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত অঙ্কের চেয়েও বেশি, এমনকি দ্বিগুণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ ধার্য করার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে বিধানসভা সূত্রের খবর।
তবে এই বিল ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার নামে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনের হাতিয়ার হিসেবেই এই আইন ব্যবহার হতে পারে। সরকারের পাল্টা দাবি, উদ্দেশ্য একটাই সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বেআইনি সম্পদের উৎসে আঘাত করা।
বিধানসভায় বিলটি পাস হলে শুধু অপরাধ দমন নয়, অবৈধ সম্পত্তির উপরও সরকারি নজরদারির নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে সেই আইন কতটা অপরাধ রুখবে, আর কতটা রাজনৈতিক বিতর্ক ডেকে আনবে নজর এখন সেদিকেই।





