কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ দুর্গাপুজো পেরোলেই কলকাতা পুরভোটের সম্ভাবনা। তার আগে আচমকা বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে দেখা গেল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিংকে। সঙ্গে ছেলে অমিত সিং এবং মেয়ে কৃষ্ণা সিং। এক সময় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতাই বিধানসভা ভোটের পর শিবির বদলে যোগ দিয়েছিলেন ঋত শিবিরে। ফলে রবিবার বিজেপি দফতরে তাঁর হাজিরা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
তবে কি পুরভোটের আগে ফের ‘ফুল বদল’? বিজেপির দরজায় কি নতুন ঠিকানা খুঁজছেন তারক? সদর দফতর থেকে বেরিয়ে অবশ্য সেই সম্ভাবনায় নিজেই জল ঢাললেন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ। তাঁর দাবি, দলবদলের উদ্দেশ্যে নয়, বরং একাধিক অভিযোগ জানাতেই বিজেপি দফতরে এসেছিলেন তিনি।
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর যখন দল এবং পুরসভার পদ ছাড়তে শুরু করেছিলেন, সেই তালিকায় নাম উঠেছিল তারকেরও। তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তাঁর বক্তব্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঠিক ভাবে শাসন করেননি। তার ফলেই এখন তাঁকেও ‘চোর’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে এবং সেই রাজনৈতিক দায় দলের সকলকেই নিতে হচ্ছে। পরে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছেড়ে ঋত শিবিরে যোগ দেন তারক। নিউ টাউনের একটি হোটেলে প্রাক্তন কাউন্সিলরদের নিয়ে ঋত শিবিরের বৈঠকেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল।
সেই প্রেক্ষাপটে রবিবার বিজেপির সদর দফতরে তাঁর উপস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই নতুন প্রশ্ন তুলে দেয়। বিশেষ করে সঙ্গে ছেলে-মেয়ের উপস্থিতি জল্পনায় আরও মাত্রা যোগ করে। এ দিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুনীল বনসাল-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা সদর দফতরে ছিলেন। তারক জানান, মূলত সুনীল বনসালের সঙ্গেই তাঁর কথা হয়েছে।
কিন্তু কেন? দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারক অন্য ব্যাখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি তাঁর ছেলে এবং মেয়ের বিরুদ্ধেও ‘মিথ্যা মামলা’ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশ এবং থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলেই তাঁর দাবি।
তারকের কথায়, সেই অভিযোগের বিষয়েই বিজেপির রাজ্য দফতরে এসে দলের নেতৃত্বকে জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতৃত্বও বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবু জল্পনা থামছে না। কারণ রাজনীতিতে দলীয় দফতরে নেতার উপস্থিতি অনেক সময় নিছক অভিযোগ জানানোতেই থেমে থাকে না। তার উপর সামনে পুরভোট। কলকাতার পুর রাজনীতিতে দলবদল, কাউন্সিলরদের অবস্থান এবং স্থানীয় সমীকরণ সবই এখন নতুন করে হিসাবের খাতায়। তারকের ক্ষেত্রে সেই পুরনো দলবদলের ইতিহাসও রয়েছে।
তাই আপাতত তাঁর বক্তব্য দলবদল নয়, অভিযোগ জানাতেই বিজেপি দফতরে যাওয়া। কিন্তু রাজনীতির অলিগলিতে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে পুরভোটের আগে এই সাক্ষাৎ কি শুধুই অভিযোগের, নাকি তার আড়ালে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের শুরু?





