কলকাতা, ৯ আগস্টঃ ‘পরিবর্তন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বার বার। সতর্ক করেছিলেন ভবিষ্যৎ নিয়েও। কিন্তু তাঁর সেই সতর্কবার্তার বাস্তব ছবি দেখে যেতে পারেননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে সেই কথাই মনে করালেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দূরদর্শী। অনেক ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের বিপদের আঁচ আগেই পেয়েছিলেন তিনি।
সেলিমের কথায়, তৃণমূলের জমানায় বুদ্ধদেব বার বার প্রশ্ন তুলতেন ‘‘কেন পরিবর্তন? কীসের পরিবর্তন? এই পরিবর্তনে রাজ্যের লাভ কী?’’ একই সঙ্গে সতর্ক করতেন, এক সরকারের বিদায়ের পরে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। সেই আশঙ্কার প্রতিফলনই এখন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের।
তবে শুধু রাজনৈতিক বুদ্ধদেবকে নয়, তাঁর সাংস্কৃতিক সত্তাকেও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে চায় সিপিএম। সেই লক্ষ্যেই তাঁর নামে একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছেন সেলিম। জ্যোতি বসু গবেষণা কেন্দ্রের ধাঁচে তৈরি হবে এই কেন্দ্র। নাম কী হবে, তা ঠিক করতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও প্রস্তাব নেওয়া হবে।
বুদ্ধদেবকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক রুচির কথাও উঠে আসে। সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানান, পার্টি ও সরকারের কাজে বহু বার বুদ্ধবাবুর সঙ্গে সফরের সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেই সময় রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বুদ্ধদেবের গভীর জ্ঞানের পরিচয় পেয়েছিলেন। এমনকি তাঁর গানও শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ইতিমধ্যেই বুদ্ধদেবের রাজনৈতিক জীবন, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি ওয়েবপেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে কারও কাছে বুদ্ধদেবের কোনও ছবি, নথি বা স্মৃতিসামগ্রী থাকলে তা দলের হাতে তুলে দিতে।
রাজনীতির মঞ্চে তাঁর সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু তাঁর ভাবনা, সতর্কবার্তা এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ধরে রাখতে এ বার তৈরি হচ্ছে নতুন পরিসর। বুদ্ধদেবকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আগামী প্রজন্মের কাছে সেই উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়াই সিপিএমের লক্ষ্য।





