কলকাতা, ৯ আগস্টঃ দল ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু নিচুতলায় ‘তোলাবাজি’ বা অনৈতিক কাজের অভিযোগ যেন নতুন সরকারের অস্বস্তির কারণ না হয়ে ওঠে সেই বার্তাই এ বার স্পষ্ট করল রাজ্য বিজেপি। দলের অন্দরে ‘তোলাবাজ’ এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের চিহ্নিত করতে জেলার পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, দলবিরোধী কাজ, তোলাবাজি কিংবা কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বার করবেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকেরাই। সংগঠনের নিচুতলায় বিচ্যুতি ঠেকাতে বার বার রাজ্য নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। বিষয়টি যে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে স্বস্তিদায়ক নয়, তা দলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক বার্তাতেই স্পষ্ট।
শুধু পর্যবেক্ষক নয়, জেলা সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট বিধায়কদেরও এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে। দলের অন্দরে অভিযোগ, অনেক জেলাতেই সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিধায়কের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নেই। ফলে নিচুতলার সমস্যা সময়মতো রাজ্য নেতৃত্বের নজরে আসছে না। এই সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করে সংগঠনকে ‘শুদ্ধ’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকের পর শনিবারও সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সাংগঠনিক বৈঠক করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে মানুষ শুধু সরকার বদল চাননি, প্রশাসনের ‘ভিতরের মানুষটার’ও পরিবর্তন চেয়েছেন। কোথাও বিচ্যুতি দেখা গেলে দলীয় স্তরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শমীকের বক্তব্যে উঠে আসে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, প্রতিহিংসার রাজনীতির পথে হাঁটবে না বিজেপি। বরং সংগঠনের ভিতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠলে দলীয় ভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোর কমিটির বৈঠকে আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি আসন্ন পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করা, নির্বাচনী কৌশল এবং সম্ভাব্য ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ প্রশাসন সামলানো এবং সংগঠনের নিচুতলা নিয়ন্ত্রণে রাখা। ‘তোলাবাজি’ নিয়ে নতুন নজরদারি সেই দ্বিতীয় পরীক্ষারই শুরু বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





